লাইনেসট্রেনল ও ইথিনাইল এস্ট্রাডিয়েল একটি কম্বাইন্ড গর্ভনিরোধক পিল যা খাওয়ার গর্ভনিরোধক হিসাবে নির্দেশিত।
প্রতিদিন যথাসম্ভব একই সময়ে নির্দেশ অনুযায়ী পিল খেতে হবে। আপনার মাসিক শুরুর প্রথম দিনই পিল খেতে শুরু করবেন। মাসিকের ২-৫ দিনের ভিতরে যে কোন দিন পিল খাওয়া শুরু করা যায় , কিন্তু সেইক্ষেত্রে প্রথম মাসে পিল খাওয়াকালীন প্রথম সাত দিন কনডম ব্যবহার করা উচিত। প্রতিদিন ১ টি করে , পর পর ২২ দিন পিল খাবেন। ৬ দিনের পিল মুক্ত সময়ের পর পরবর্তী নতুন প্যাকেট থেকে পিল খাওয়া শুরু করবেন ।
এই ৬ দিনের ভিতরেই আপনার মাসিক হবে যা কখনো কখনো পরবর্তী প্যাকেট শুরুর আগে পর্যন্ত চলতে পারে। মাসিক চলতে থাকলেও এই পিল এর পরবর্তী প্যাকেট সপ্তম দিনে আরম্ভ করুন। আপনি যত দিন সন্তান না চাইবেন , ততদিন এই নিয়মে পিল খাওয়া চালিয়ে যাবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে কারও কারও সাময়িক কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া যেমন মাথা ব্যাথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব অথবা পিল খাওয়াকালীন সময়ে সামান্য ফোটা ফোঁটা আকারে মাসিক হতে পারে। কিন্তু নিয়মিত পিল খেতে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই এই সমস্ত উপসর্গ দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে দূরীভূত হয়ে যাবে। এই সকল উপসর্গের জন্য অতিরিক্ত চিন্তিত হবার কোন কারণ নাই। তবে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া যদি আরও বেশি দিন চলতে থাকে তখন অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
যে সব ক্ষেত্রে আপনি কম্বাইন্ড গর্ভনিরোধক ব্যবহার করতে পারবেন না-
ভেনাস থ্রম্বসিস বর্তমানে উপস্থিত অথবা পূর্বে ছিল
কার্ডিওভাসকুলার অ্যাক্সিডেন্ট ও মায়োকার্ডিয়াল ইনফারকশন অথবা ব্যাধির পূর্ব লক্ষণ
জন্মগত অথবা অন্য কোন ভাবে ভেনাস অথবা আর্টারিয়াল থ্রম্বসিসের প্রবণতা থাকলে
জনন অঙ্গসমূহ, স্তন অথবা লিভারে ম্যালিগন্যান্ট অবস্থার কথা জানা থাকলে অথবা সন্দেহ করলে
লিভারের জটিল রোগ থাকলে এমনকি লিভার ফাংশন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে ব্যর্থ হওয়ার পূর্ব বিবরন থাকলে
অজ্ঞাত কারণে ভ্যাজাইনাল ব্লিডিং হলে
এই পিলের যে কোন উপাদানে অতি সংবেদনশীলতা থাকলে
যদি নির্দিষ্ট সময়ে পিল না খাওয়া হয় এবং যদি ১২ ঘন্টা অতিক্রম না করে তা হলে পিলের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে। এক্ষেত্রে যখনই মনে পড়বে তখনই পিলটি খেয়ে নিন এবং পরের পিল গুলি সঠিক সময়ে খাবেন।
যদি ১২ ঘন্টার বেশী সময় পার হয় তবে পিলের কার্যক্ষমতা কমে যায়। তখন আপনাকে নিম্নলিখিত নিয়ম পালন করতে হবে। মনে রাখবেন ১ম ও ৩য় সপ্তাহে যে কোন দিন পিল খেতে ভুলে গেলে বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন। অন্যথায় গর্ভধারনের ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
প্রথম সপ্তাহে পিল খেতে ভুলে গেলে এবং ভুলে যাওয়ার আগে ঐ সন্তাহে যৌন মিলন করে থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন । যদি যৌন মিলন না করে থাকেন তাহলেঃ
প্যাকের একাধিক পিল ভুলে গেলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। আপনি যদি প্যাকের পিল খেতে ভুলে যান এবং প্রথম পিল মুক্ত দিনে আপনার মাসিক না হয় তবে আপনি গর্ভবতী হতে পারেন। পরবর্তী প্যাক আরম্ভের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতাঃ
অন্যান্য শারীরিক অবস্থা, যার জন্য সংবহনগত সমস্যা দেখা দিতে পারে, কিন্তু কম্বাইন্ড গর্ভনিরোধক ব্যবহারের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নাই এই সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতার প্রয়োজন। যেমন- ডায়াবেটিস মেলিটাস, সিষ্টেমিক লুপাস এরিথমেটোসাস, হিমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম, পেটের নাড়িতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ইত্যাদি এই সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতার প্রয়োজন আছে। ঘন ঘন মাইগ্রেন দেখা দেওয়া, টিউমার, লিভারের কার্যকারিতার দীর্ঘদিনের সমস্যা এই সকল ক্ষেত্রেও সতর্কতার প্রয়োজন। বাচ্চাকে বুকের দুধ দিচ্ছেন এমন মহিলাদেরও সতর্কতার প্রয়োজন কারণ কম্বাইন্ড গর্ভনিরোধক পিল বুকের দুধের পরিমান এবং গুনগতমানের পরিবর্তন করতে পারে। ডায়াবেটিক আছে এমন মহিলারা খাওয়ার কম্বাইন্ড গর্ভনিরোধক ব্যবহারকালে বিশেষ করে যখন খাওয়া শুরু করবেন, তখন সতর্কতার প্রয়োজন। যে সব মহিলার ক্ষেত্রে ক্লোয়েসমা গ্রাভিডেরামের পূর্ব বিবরণ রয়েছে তারা চড়া রোদ উপেক্ষা করবেন।
কম্বাইন্ড গর্ভনিরোধক পিল ব্যবহারকারীদের নিম্নলিখিত অনাকাঙ্খিত সমস্যাসমূহ, যেমন স্তনের স্পর্শকাতরতা, মাথাধরা, মাইগ্রেন, কন্টাক্টলেন্সে অস্বস্তিবোধ হওয়া, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা, ইডিমা, শারীরিক ওজনের পরিবর্তন ইত্যাদি দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
গর্ভধারণ করলে অথবা এ ব্যাপারে সন্দেহ দেখা দিলে কম্বাইন্ড গর্ভনিরোধক ব্যবহার করতে পারবেন না।
অ্যাম্পিসিলিন, টেট্রাসাইক্লিন, বারবিচুরেটস, হাইড্যান্টয়েনস, প্রিমিডন, কার্বামাজেপিন ও রিফামপিসিন এই জাতীয় কিছু কিছু ঔষধ পিলের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। পিল খাওয়াকালীন সময়ে যদি আরও কোন ঔষধ কোন কারনে খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
আলো থেকে দূরে, ২°C-২৫°C তাপমাত্রায় শুষ্ক স্থানে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
Always consult a registered physician before taking any medicine. Prices shown are MRP and may vary by pharmacy.