শিশুর জ্বর দেখলে বাবা-মায়ের উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু বেশিরভাগ সময় শিশুর জ্বর সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হয় এবং কয়েকদিনের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে কিছু বিষয় জানা থাকলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

জ্বর কখন বলা হয়

শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ১০০.৪°F (৩৮°C) বা তার বেশি হলে জ্বর ধরা হয়। থার্মোমিটার দিয়ে বগলে বা কানে মাপা সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি।

বয়স অনুযায়ী গুরুত্ব

  • ৩ মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর — এটি জরুরি অবস্থা। ১০০.৪°F বা তার বেশি জ্বর হলে দেরি না করে সাথে সাথে ডাক্তার দেখান বা হাসপাতালে যান।
  • ৩–৬ মাস — জ্বর ১০২°F এর বেশি হলে বা শিশু খুব নিস্তেজ থাকলে দ্রুত ডাক্তার দেখান।
  • ৬ মাসের বেশি — সাধারণত জ্বরের মাত্রার চেয়ে শিশুর সার্বিক অবস্থা (খেলছে কিনা, খাচ্ছে কিনা) বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

জ্বরে ঘরে যা করবেন

  • হালকা পাতলা কাপড় পরান, বেশি গরম কাপড়ে মুড়িয়ে রাখবেন না
  • ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখুন, ফ্যান সরাসরি গায়ে না লাগিয়ে চালান
  • বুকের দুধ বা তরল খাওয়ানো চালিয়ে যান — ডিহাইড্রেশন এড়াতে এটি সবচেয়ে জরুরি
  • হালকা গরম পানি দিয়ে গা মুছে দিতে পারেন (একদম ঠান্ডা পানি বা বরফ ব্যবহার করবেন না)

প্যারাসিটামল ডোজ (শুধু ধারণার জন্য)

শিশুর ওজন অনুযায়ী প্যারাসিটামল সিরাপের (যেমন Napa Syrup, Ace Syrup) ডোজ নির্ধারিত হয় — সাধারণত প্রতি কেজি ওজনে ১০–১৫ মি.গ্রা., প্রতি ৪–৬ ঘণ্টা পরপর। তবে সঠিক ডোজ শিশুর বয়স ও ওজন অনুযায়ী ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নিন — সিরাপের সাথে দেওয়া মাপার কাপ বা সিরিঞ্জ ব্যবহার করুন, রান্নাঘরের চামচ দিয়ে নয়।

কখনোই না:

  • ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুকে Aspirin দেবেন না — Reye's Syndrome নামক বিরল কিন্তু মারাত্মক সমস্যার ঝুঁকি থাকে
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া একাধিক জ্বরের ওষুধ একসাথে দেবেন না
  • ২ বছরের কম বয়সী শিশুকে কাশির সিরাপ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দেবেন না

ঠান্ডা-কাশিতে করণীয়

  • নাক বন্ধ থাকলে স্যালাইন নাকের ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন
  • ১ বছরের বেশি বয়সী শিশুকে সামান্য মধু দেওয়া যেতে পারে কাশি কমাতে (১ বছরের কম বয়সীকে মধু দেওয়া বিপজ্জনক — বটুলিজমের ঝুঁকি)
  • ঘরে বাষ্প বা হিউমিডিফায়ার ব্যবহার শ্বাসনালী আরাম দিতে পারে
  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাওয়ান

যে লক্ষণে সাথে সাথে হাসপাতালে যাবেন

  • শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া
  • ঠোঁট বা মুখ নীলচে হয়ে যাওয়া
  • খিঁচুনি
  • একনাগাড়ে কান্না থামছে না বা শিশু অস্বাভাবিক নিস্তেজ
  • শরীরে র‍্যাশ যা চাপ দিলেও মিলিয়ে যায় না
  • প্রস্রাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া (ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ)
  • জ্বরের সাথে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া

টিকা ও প্রতিরোধ

নিয়মিত EPI টিকা সময়মতো দেওয়ালে অনেক গুরুতর সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়। এছাড়া হাত ধোয়ার অভ্যাস, পরিষ্কার খাবার-পানি এবং ভিড় এড়ানো শিশুদের সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।


এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। শিশুর যেকোনো ওষুধ ও ডোজ নিশ্চিত করতে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।