সাধারণ ভাইরাল জ্বর ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো প্রয়োজন হয় না — বরং অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে ক্ষতি হয়।
জ্বর হলে প্রথমে যা করবেন
- তাপমাত্রা মাপুন। ১০০.৪°F (৩৮°C) এর উপরে হলে জ্বর ধরা হয়।
- বিশ্রাম নিন। শরীরকে ভাইরাসের সাথে লড়াই করার সুযোগ দিন।
- প্রচুর পানি ও তরল খান। জ্বরে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায় — ডাবের পানি, স্যালাইন, স্যুপ, লেবুর শরবত সবই ভালো।
- হালকা কাপড় পরুন। মোটা কাঁথা-কম্বলে শরীর মুড়িয়ে রাখবেন না, এতে তাপমাত্রা আরও বাড়ে।
কোন ওষুধ খাবেন
জ্বর ও গা-ব্যথার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ওষুধ প্যারাসিটামল (যেমন Napa, Ace, Renova)।
- প্রাপ্তবয়স্ক: ৫০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট ১–২টি, প্রতি ৪–৬ ঘণ্টা পরপর
- দিনে সর্বোচ্চ ৪ গ্রাম (৫০০ মি.গ্রা. এর ৮টি ট্যাবলেট) — এর বেশি কখনোই না, লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে
- খালি পেটে না খাওয়াই ভালো
যা করবেন না: ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক (Azithromycin, Cefixime ইত্যাদি) খাবেন না। ভাইরাল জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না।
জ্বরের সময় কী খাবেন
- নরম ভাত, জাউ, খিচুড়ি
- মুরগির স্যুপ বা পাতলা ডাল
- ডাবের পানি, ওরস্যালাইন
- ফল — বিশেষ করে ভিটামিন সি যুক্ত (কমলা, মাল্টা, পেয়ারা)
- আদা-লেবু চা
ভারী, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
নিচের যেকোনো একটি হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান:
- জ্বর ১০৩°F এর উপরে, বা ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হলে
- তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বা খিঁচুনি
- শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা
- শরীরে র্যাশ বা লাল দাগ (ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে)
- প্রস্রাব কমে যাওয়া বা প্রচণ্ড দুর্বলতা
- ৬ মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর
মনে রাখবেন: বর্ষা মৌসুমে জ্বর হলে ডেঙ্গু টেস্ট (NS1) করিয়ে নেওয়া নিরাপদ।
এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।